বিশ্বাস ও হত্যা কি পরিপূরক?

Vivekanandaনাজিয়া হক অনি: অনেকে বলছে ধর্ম নিয়ে যখন কথা বলেছে তখন কেন প্রতিবাদ করেনি কেউ? অভিজিৎ রায় ধর্ম নিয়ে কথা বলে সীমা লঙ্ঘন করেছে। কাজেই তার উচিৎ পরিণাম হয়েছে।

আমি জানতে চাই এই সীমাটি ঠিক কে নির্ধারণ করে দেয়? কে ঠিক করে দেয় যে এই এই শব্দ বা এই এই বাক্য লিখলেই একজন মানুষের আরেকজন মানুষের হত্যা করার অধিকার তৈরি হয়ে যায়? তাকে মেরে ফেলা দায়িত্ব হয়ে যায়? কোন নীতিমালা অনুসরণ করার কারণে? কোথা থেকে এই নির্দেশ পায় যা তা পালন করতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে তথাকথিত “ঈমানদার” বান্দারা চাপাতি উচিয়ে নেমে পরে? কোন পর্যায়ের বিশ্বাস থাকলে, তাকওয়া থাকলে, নিয়ত থাকলে তাদের কর্ম এমন বরকতহীন হয়ে পরে?

আমি জানিনা।

“তোমরা সীমা লঙ্ঘন করিও না। আল্লাহতায়ালা সীমা লঙ্ঘনকারী কে পছন্দ করেন না।”

ছোটবেলায় আযানের পর এই কথাটা অনেক বার দেখেছি। কমন সেন্স বলে একটা বস্তু থাকে সেটা ব্যবহার করলে সীমা লঙ্ঘন কারীদের যে ভাল হয়না যে কেউ বুঝতে পারে। আল্লাহকে বিশ্বাস করলেও বুঝতে পারে, না বিশ্বাস করলেও পারে। কিন্তু চারদিকে যা দেখছি তাতে এখন আসলে কাকে বলে সীমালঙ্ঘন করা এটাই আমার কাছে এখন দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে।

যারা খুন করে তাদের কি এটা জানা নেই কারো জান যদি দিতে না পারে, জান নেয়ার অধিকার তাদের নেই? তবে কেন এই কাজটা করে? যারা এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে তারা নিজেরাও জানেনা ৫০০ বছর পর ইতিহাস তাদের নিয়ে হাসবে, পৃথিবীতে ধর্ম থাকুক আর না থাকুক। ধর্ম থাকলে, বিশ্বাস থাকলে মানুষ তাদের নিয়ে এই ভেবে হাসবে যে বিশ্বাসের মত পবিত্র একটা ব্যাপারকে তারা কতটা অপবিত্র করেছে। আর না থাকলে তাদের উপর ঘৃণা ব্যতীত অন্য কিছু তাদের জুটবে না। অর্থাৎ কোন দিক থেকেই এরা কোনদিন কারো সম্মান পাবে না। এরা কেবল সহিংসতা সৃষ্টি করছে আর সহিংসতা কোনদিন কোন কিছুর সমাধান হতে পারে না।

খুব জানতে ইচ্ছা করে এই সহিংস মানুষগুলোর আসলেই কি ঈমান আছে? থাকলেও বা কীরকম? কার উপর ঈমান এদের? কিসের উপর? ঈমান বা বিশ্বাস থাকলে তা এত ঠুনকো হয় কীভাবে যে কয়েক পাতা বই এর উত্তর চাপাতি দিয়ে দিতে হয়? ঈমান রক্ষা করতে যদি কলমের কালির বদলে তরবারির রক্ত ঝরানো লাগে তবে খুব সহজেই বোঝা যায় এখানে শুধু ইমানি দায়িত্ব নয়, সাথে আরও একটা জিনিস কাজ করে। তা হল ভয়।

এখন প্রশ্ন হল ভয়টা কী নিয়ে? কী হারাবার ভয় এদের? এটাই কি ভয় আর কেউ ধর্মে বিশ্বাস করবে না? এত সহজ? কয়েকটা বই পড়েই বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়? এই এদের ঈমান? যে কয়েকটা বই এর ভয়ে চিরতরে তাদের স্তব্ধ করে দিতে হয়? যুক্তির বদলে পাল্টা যুক্তি দেয়াই কি যৌক্তিক নাকি যুক্তিতে না পেরে তর্কে না পেরে হেরে যাবার ভয়ে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দেয়া যৌক্তিক?

তর্কে যদি না জেতে, যুক্তি দিয়ে যদি না জিতে তখন মানুষ জোর করে গায়ের জোরে জিততে চায়। এই ব্যাপারটাও সেরকম। দেশের মানুষ এই কয়েক পাতা বই পড়ে যদি ঈমান হারিয়ে ফেলে তবে সেই ঈমান, সেই বিশ্বাসের মুল্য কি? আমি বুঝতে ব্যর্থ।

ধ্বংস ছাড়া সামনে কিছু দেখতে পাই না। যিনি সবাইকে তৈরি করেছেন তার কাছে এইটাই প্রার্থনা, এদেশের মানুষের প্রতি সদয় হও। যারা এমন অপঘাতে মারা যেতে পারে তাদের বাঁচাও, যারা মারতে চায় তাদেরও বাঁচাও নষ্ট হওয়ার পথ থেকে।

-ডাঃ নাজিয়া হক অনি

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.