মস্তিষ্কের স্বাধীনতা নেই যেখানে, সে দেশের জাত্যাভিমান কিসের?

Protesters-in-death-of-US-Bangladeshi-blogger-jpgসরিতা আহমেদ:  “A pen is mightier than sword “, সব অস্ত্রের চেয়ে বড় হল কলম —- সত্যি নাকি ??? আজ যে পৃথিবীতে আমরা শ্বাস নিচ্ছি তাতে এই প্রবাদ কি মৃত নয় ?

হ্যাঁ এটাকে শ্বাস নেওয়াই বলে । বেঁচে থাকা বলে না ।

‘শান্তির ধর্ম’ ইসলাম আর কত রক্ত চায় ? আর কত মানুষের লাশ পেলে ‘শান্তি’ আর ‘ঈমান’ সন্ধানীরা শান্ত হবে ?? বাংলাদেশ এখন বাংলাস্তান হয়ে গেছে ।

মস্তিষ্কের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে কি লাভ ২১ শে ফেরুয়ারির শোক সভার , শুভেচ্ছার, উৎসবের?

কি দরকার অমন মেলার যেখানে বই-য়ের জন্মই হয় ব্যান হওয়ার জন্য !

তার বদলে বিক্রি হয় দাংগা, চোরা গোপ্তা, নীচতা, শঠতা, ভীরুতা ? বুক ফুলিয়ে বইমেলায় ঘুরে বেরায় জংগিরা? কিসের স্বাধীন দেশ তোমাদের যা মুক্তচিন্তকদের রক্ত ছাড়া একদিন পার করে না?

কিসের এত আবেগ, কিসেরই বা জাত্যাভিমান তোমাদের, যে জাতি আজ বিশ্ব দরবারে ধর্ষিত জাতি রূপে স্বীকৃত ?

আইএস এর সিরিয়া , তালিবানী আফগানিদের দিকে যখন তর্জনী তোলো, নিজের দিকে তোমারই চারটি আঙ্গুল ইশারা করে, মনে থাকে তোমাদের ?

হে মুজিব জাত স্বাধীন বাংলা , এই কি তোমার গণতন্ত্র, সাম্যবাদ ? যেখানে মানুষ নিঃশ্বাস নিতে ভয় পায়? নিজের দেশের মাটিতে হাঁটতে ভয় পায় ?

‘বিশ্বাসে’র ভাইরাস আজ ছিনিয়ে নিল Avijit Roy কে । ঠিক যেমন দু’বছর আগে ছিনিয়ে নিয়েছিল ব্লগার ‘থাবাবাবা’ রাজীব হায়দার কে , আরো আগে ২০০৪ এ এই বইমেলাতেই কোপানো হয়েছিল স্যার হুমায়ুন আজাদ কে ।

এর পর কে ?

তুমি, আমি, আমরা ।

ইসলামি দেশগুলো জাতিসঙ্ঘের কাছে দরবার করছে বিশ্বব্যাপী ব্লাসফেমি আইন বলবৎ করার জন্য । জানি না জাতিসংঘ কোন ভোট ব্যাঙ্কের ভয়ে ভেবে দেখছে তাদের দাবী !

কোন এক সুন্দর সকালে, যদি সংবিধানে মুক্তচিন্তার বিরূদ্ধে আইন লাগু হয়, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় শরিয়ার মত নৃশংস আইন সবার মাথায় ,

গ্লোবাল ইসলামাইজেশনের জেরে পৃথিবীর অভিধান থেকে মুছে যায় ‘সেকুলার’ শব্দটা, দেশগুলো সব বোরখার কালো অন্ধকারে ঢেকে রাখতে বাধ্য হয় নিজের মানচিত্র , মুক্তচিন্তার প্রসারের ভয়ে ভীত ধর্ম ও তার সন্ত্রাসী পেয়াদা পৃথিবী থেকে কেড়ে নেয় স্কুল -কলেজ-বই- কলম- কম্পিউটার, ব্লাসফেমাস-দের নির্বিচারে কোপানো হয় দিনে দুপুরে কি বাংলাদেশে কি পশ্চিমবঙ্গে কি আসামে …তাহলে ভাব কোথায় ফিয়ে দাঁড়াবে এই সভ্যতা ?

একবার কল্পনা কর এমন এক পৃথিবী যেখানে বাড়ির বাচ্চাটি স্কুলে না গিয়ে প্রাণ রক্ষার তাগিদে হাতে তুলে নিচ্ছে নিজের চেয়েও ভারি AK 56 ! অভিজিত রায়ের পরে , আমার মনে হয়, এমন এক সকাল আসতে খুব দেরি নেই ।

না ভারত, তুমিও কিন্তু খুব ভালো নেই । পশ্চিমবঙ্গে মূখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গ দান করে দিল্লীর মিটিং এ যায় দাগী আসামী এক জামাতি ।চিটফান্ডের টাকা দিয়ে পোষা হয় ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের । ছবি বেচার টাকায় কেনা হয় আগ্নেয়াস্ত্র , বোমা, বারুদ । ভোট ব্যাঙ্কের লোভে নির্বিচারে চলে ধর্ম ব্যবসায়ীদের তোল্লাই দেওয়ার কাজ ।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সুস্থচেতনার মাথাকে ঢেকে রাখেন অন্ধকার হিজাবে। বিস্ফোরণের পরেও চাপা দেওয়া হয় তদন্তের কাজ । পাছে ইসলামি ভোট কমে, তাই বলা হয় ‘সাজানো ঘটনা’ / ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ …বিভ্রান্ত করা হয় মানুষকে । তিস্তার জল বৈঠক অজানা কারণে কোন সমাধান সূত্র বের করে না । যাতে এদেশের ইসলামি মানুষদের এই বার্তা দেওয়া যায় ” দেখ, আমরা ওদেশের ‘সেকুলার’; ‘শাহবাগী’ মুসলিমদের সাথে নেই । তোমাদের সাথে আছি, পাশে আছি ।”

দেশ জুড়ে ধর্মপ্রচার আর ধর্মান্তর করে, ধর্ম বাঁচাও আন্দলোন করে, দেশের মানুষদের নির্বিচারে খুন করার পরও যে রাষ্ট্র একবারও বিচলিত হয় না, ধিক্কার দিই অমন মাতৃভূমিকে । থুতু দিই দেশের সার্বভৌমত্বের উপর ।

হে মোর প্রিয় দেশ, তুমি মেতে থাকো ১০৮ রকম ধর্মচর্চায়, যেদিন আমরা থাকব না সেদিন জবাব দিও প্রজন্মকে । কারণ, কোনো রাষ্ট্রআইন কারুর মস্তিষ্ককে গ্রেফতার করে না, যদি তা আলোকপ্রাপ্ত হয়, সুস্থচেতনার আধার হয় । প্রশ্ন আসবেই ধেয়ে।

আমরা সেদিন থাকব না ঠিকই, তবু  মনে রেখ, ইতিহাস কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা কয় না ।

: আসানসোল, বর্ধমান

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.