বাংলাস্তান!!!!

W#Question 3তানিয়া মোর্শেদ: ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম! “বিসমিল্লাহ্‌ হির রহমানির রহিম” দিয়ে শুরু!

যে যায় মক্কায় ……  যেই যায় সংসদে সেই মাথায় ঘোমটা দেয়! আগেরদিনও যার মাথায় ছিলনা ঘোমটা! ক’জনের উদাহরণ দেবো? কাদের খুশী করতে এই ঘোমটা?! নাস্তিক ব্লগার রাজীব খুন হয়, নাস্তিকতা-আস্তিকতা নিয়ে দেশে চলে রাজনীতি, ফেইসবুকে চলে নোংরামি! প্রজন্ম চত্বরে চলে দলাদলি!

গণ জাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামে যেতে চাইলে হেফাজতি দেয় হুমকি, সরকার দেয় বাঁধা! কার জন্য? কাদের রক্ষা হয়?! হেফাজত করে শাপলা চত্বরে জমায়েত? কি ভাবে?! হেফাজত জানায় মদীনা সনদের দাবী, বলা হয় দেশ চলছে, চলবে মদীনা সনদ মেনে! এরপরেও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র?! হেফাজত চালায় তান্ডব ঢাকায়, টিভিতে, ফেইসবুকে সবাই ম্যা ম্যা করে তাদের জন্য! জামাত-শিবিরের তান্ডবেও করে ম্যা ম্যা, কতজনকে মারা হলো, ধরা হলো তা বলে! চোখে পড়ে না তারা কত সাধারণ মানুষ জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে! ধ্বংস করে দেশ!

হেফাজতকে শান্ত করা হয়, জমি দিয়ে!

নাস্তিক ব্লগারদের করা হয় আটক! তাদের পেনের খোঁচায়, কীবোর্ডের আঘাতে কতজনের ধর্মানুভূতি শহীদ হয়েছে কে জানে!! হয় নতুন নীতি মালা, ধর্মান্ধদের রুখতে নয়! মুক্তমনাদের, নাস্তিকদের অধিকার খর্ব করতে! সব সুশীলরা থাকেন চুপ! থাকবেনই তো! তারা তো কখনো নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন না!

আমি অনেক বার বলেছি, একাত্তরের পক্ষে যতজন মানুষ আছেন, লেখা-কথা বলা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে, তার সামান্যই আছেন ধর্মান্ধতা নিয়ে কথা বলা, শোনার মানুষ। হারিকেন নিয়ে খুঁজতে হয়! সব ঠিক আছে, যেই ধর্মান্ধতা বিষয়ে কথা বলেছো তো দেখবে আশে পাশে কেউ নেই! ধর্ম-অধর্ম মানুষের অধিকার। ধর্মান্ধতা নয়। জামাত-শিবির-রাজাকার-হেফাজতের সাথে বন্ধুত্ব-আত্মীয়তা চলবে, আর দেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ!

স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ হয়েও বুঝে না, রাজাকার-রাজাকার মনস্কদের সাথে বন্ধুত্ব, হ্যাঁ ফেইসবুকে বন্ধুত্বও তার মধ্যে পরে রাখলে তাদেরই সাহস জোগানো হয়। প্রগতিশীল মানুষ তর্ক করেন, জামাতি পেইজের জিনিস পোস্ট করলে অসুবিধা নেই যদি হয় তা সুন্দর, ভালো কিছু! (রেডিওমুন্না একটি জামাতি পেইজ। কাউকে এর শেয়ার দিতে দেখলে আনফ্রেন্ড করবো)।

বোরখা, হিজাব, নেকাব নিয়ে কথা বলা যাবে না! পোষাক ব্যক্তিগত অধিকার। কিন্তু যে অধিকার আমার সমাজ, দেশ, সংস্কৃতি বদলে দেয় তা নিয়ে আমি কথা বলবোই। আজ থেকে তিরিশ বৎসর বা তারো আগে বিচিত্রায় বোরখা পড়া ছাত্রী শিবিরের কথা পড়েছি। তারা “পর্দা” না করাদের প্রস্টিটিউট ভাবে! প্রস্টিটিউশন একটি পেশা। এ নিয়ে নেতিবাচক কিছু আমি বলি না। অনেকের কাছেই এখন শুনি, বোরখা পড়ে অনেক প্রস্টিটিউট, নিজেদের আড়ালে রাখতে। আমি যদি বলি, নিজেদের খাদ্য ভাবে হিযাবী, বোরখাওয়ালী, নেকাবধারীরা! আমি পুরুষদের ধর্ষক ভাবি না। মানুষকে মানুষ ভাবি।

স্কুলের বাচ্চা মেয়েদের পোষাকে কেন হিজাব এসেছে? কে এর উত্তর দেবেন?

পৃথিবীতে অনেক ইতিহাস গড়েছেন বাংগালী, বাংলাদেশীরা। নতুন আরেকটি ইতিহাস গড়েন, স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বৎসর পর ধর্মান্ধ, অপশক্তির হাতে দেশকে তুলে দেন, বাংলাদেশকে বাংলাস্তান বানানোর শেষ পেরেক ঠুকেন। স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি বিজয়ের অট্টহাসি হাসুক! কারন তারাই তো এদের পূর্বসুরী!

শেয়ার করুন:
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.