এরকম উদ্যোগ আমাদেরও চাই

Urineউইমেন চ্যাপ্টার: তামান্না কদর গতকাল তার পোস্টে লিখেছেন, না দেখতে চাইলেও দেখা হয়ে যায়। সেদিন ডিসি, এসপিরা যেখানে থাকে সে রোড দিয়ে যাচ্ছিলাম, ৯০ ডিগ্রি মোড় ঘুরতেই যা চোখে পড়লো তা দেখার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না মোটেও। একটি ২২/২৩ বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছে। আমাকে দেখেও তার ভাবান্তর নেই, সে মূত্র ত্যাগ করলো আর তারপর ফাইন করে লিঙ্গখানি নাড়িয়ে চাড়িয়ে প্যান্টের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো।

একবার চোখ গেছে তাতে পুরোটাই বোঝা গেছে, দ্বিতীয়বার চোখ দেবার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এটুকু পথ যেতে যেতে ঠিক বোঝা গেছে সে কী করেছে। আমার বৈকালিক ভ্রমণের আনন্দটা মাটি হলো। একটা মানুষ কতটুকু পশু হলে এমনভাবে প্রাকৃতিক কাজ সারতে পারে!!! এমন দৃশ্য দেখার জন্যে প্রস্তুত থাকে না কোনো মেয়ে, তবু এই দৃশ্য প্রতিটি মেয়েকেই দেখতে হয় রাস্তায়। শুধু পেশাব করেই তারা ক্ষান্ত হয় না, লিঙ্গ নাড়িয়ে নাড়িয়ে যেভাবে শেষফোঁটা প্রস্রাব তারা বের করে তা না দেখতে চাইলেও বোঝা যায়। অস্বস্তিকর। তাদের ভাব যেনো এভাবে দেখানোতেই পুরুষত্ব, রাস্তায় দাঁড়িয়ে যদি পেশাবই করতে না পারলো তবে সে মেয়ে হয়ে গেলো না? পুরুষ বলে কথা! এই কি পুরুষত্ব!!!!!!!!

আমি তো জানি একমাত্র পশুর পক্ষেই সম্ভব যেখানে-সেখানে ত্যাগ করা। কারণ তাদের নীতি-নৈতিকতা, লজ্জাবোধ থাকে না। তামান্নার এই পোস্টটি পড়তে গিয়ে মনে পড়ে গেল, ২০০১ সালে একটা ফেলোশিপ নিয়ে দিল্লি পড়তে গিয়েছিলাম। চার মাস ছিলাম। বিভিন্ন দেশের মোট ১৬ জন সাংবাদিক আমরা। পথে-ঘাটে অহরহ এসব দৃশ্য আমরা দেখি। একদিন আমাদের গ্রুপেরই মেয়ে কিউবার মারিয়া হুট করে দৌড় দিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই সে মূত্রত্যাগকারি এক ছেলের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সেই ছেলেটি কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কি করবে বুঝতে পারছিল না। ততক্ষণে মারিয়া তার প্যান্টের জিপ টান দিয়ে লাগিয়ে দিল। ছেলেটি বাবাগো-মাগো বলে সেকী চিৎকার। সেই থেকে শুরু। আমাদের চার মাসের অবস্থানে মারিয়া এরকম বহুবার একই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা তো হেসেই খুন। মনে মনে খুবই বাহ্বা দিয়েছি ওকে এই কাজটির জন্য। বিদেশি বলেই হয়তো ওর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল।

আজ যদি ছেলেটির জায়গায় একটি মেয়ে হতো তবে এক পুরুষ তো তা দাঁড়িয়ে দেখতোই, সাখে আরো কিছু পুরুষকে এনে দেখাতো। (যদিও নারী এভাবে প্রকাশ্যে ত্যাগ করে না)। এই ই হচ্ছে পুরুষতন্ত্র। আর নারীর রুচিবোধের সাথে এখানেই পার্থক্য। তাই বলে মেয়েদের কি রাস্তাঘাটে বাথরুম পায় না? পেলেই কি তারা কাপড় তুলে বসে পড়ে? একই পরিবারে ভাইবোন বেড়ে উঠে একই শিক্ষায়, কিন্তু বড় হয়ে আলাদা হয়ে যায় কি করে, সেটাই মাথায় ঢোকে না।

যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ আমাদের দেশে একটি বাজে ধরনের সমস্যা। কোন কিছুতেই এটি থামানো যাচ্ছে না। ভিডিওটি দেখুন এবং দেখে মন্তব্যে জানান আমাদের দেশেও কি এই ধরনের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন আছে কিনা! যদি প্রয়োজন মনেই করেন তবে চলুন একটা জনমত গড়ে তুলি এবং ব্যবস্থা নিই।

http:////www.facebook.com/video.php?v=638469472896513

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.