স্বমৈথুন সংক্রান্ত কিছু কথা~

Draupodi 1ডাঃ নাজিয়া হক অনি: স্বমৈথুন অথবা হস্তমৈথুন বিষয়টি আমাদের দেশে পুরুষদের মাঝে যেভাবে প্রচলিত এবং এ বিষয়ে কথা বলা হয় তার চেয়ে অনেক অনেক কম বলা হয় নারীদের ক্ষেত্রে। দুঃখজনক হলেও সত্য এদেশে মেয়েরা বয়ঃসন্ধির সময় তাদের পিরিয়ডের ব্যাপারে যেটুকু ধারণা মা, বড় বোনের কাছে পায়, ছেলেরা তাদের স্বপ্নদোষ সম্পর্কে বাবা বা বড় ভাইয়ের কাছ থেকে তেমন কোন ধারণা পায়না।

তাদের জানার উৎস হয় চটি, পর্ণ তাদের সমবয়সী অন্য ছেলেদের থেকে এবং এসব মাধ্যম থেকে যেভাবে বিষয় গুলো জানে তা সুস্থতার পরিচয় বহন করে না। পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

যৌনতা কোন সুড়সুড়ির বিষয় না। এটি অন্য সব শারীরিক প্রক্রিয়ার মত আরেকটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এটা আমাদের মনে রাখা উচিৎ। এবং স্বমৈথুন বা হস্তমৈথুন পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সুস্থ উপায়ে যৌনতা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালিত করার একটি উপায়।

ছেলেদের নয়, আজকে মেয়েদের হস্ত মৈথুনের কিছু উপকারিতা আপনাদের বলিঃ

১) হস্তমৈথুনের সময় রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্ক থেকে “এন্ডোরফিন” নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয় যা খুশি হবার অনুভূতি দেয়, এমনকি যদি অরগাজম না হয় তারপরেও। এবং এটি স্ট্রেস বা ক্লান্তি থেকে বের হতে সাহায্য করে।

২) নিজের শরীরকে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করে যা পরবর্তীতে সঙ্গীর সাথে মিলনে বা একা মৈথুনে খুবই ইতিবাচক একটা প্রভাব ফেলে।

৩) ৪৫ বা ৫০ এর পর নারীদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় তখন অনেকেই যৌন মিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। হস্ত মৈথুন এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে। এটি যোনীপথের পেশীর জন্য স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাস। অনেকটা শারীরিক ব্যায়ামের মত এটি যোনীপথের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে।

৪) একজন নারী হস্তমৈথুনের সময় নিজের চাহিদা সম্পূর্ণভাবে নিজে পূরণ করার ক্ষমতা রাখেন কাজেই অতৃপ্তির প্রশ্নই আসে না। সময় নিয়ে, ধীরে সুস্থে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শেষ করা যায়।

৫) মাসিক ঋতুস্রাবের সময় যে পেট ব্যাথা হয় তা হস্তমৈথুন এর মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা যায়।

৬) জরায়ু মুখ বা সারভাইকাল ইনফেকশন এর সম্ভাবনা কমে যায়। যখন অরগাজম হয় তখন জরায়ু ও সারভিক্সের ভিতর জমে থাকা ফ্লুয়িড বের হয়ে যায়। এটি ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।

৭) বাচ্চা প্রসবের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যোনিপথের মাংসপেশিকে অরগাজমের মাধ্যমে শক্তিশালী ও সবল করে তোলে যা প্রসবের সময় চাপ প্রয়োগ করে বাচ্চাকে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৮) এর মাধ্যমে কোন যৌনরোগ সংক্রমণের ঝুঁকি নেই এবং গর্ভধারণের কোন সম্ভাবনা একদম নেই। সম্পূর্ণ নিরাপদ।

৯) সুস্থ যৌনতা বিকাশে সহায়ক। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। লেবু বেশি চিপলে তিতা হবেই। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বমৈথুনের অভ্যাস সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌনতা সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা, নিজের শরীর সম্পর্কে জানা ও বোঝা প্রতিটি ছেলে মেয়ের জন্য আবশ্যক। মলমূত্র ত্যাগ করা এবং যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা একই রকম প্রক্রিয়া। এই বিষয়গুলোকে চেপে রাখলে তা শরীর ও মন উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই সুস্থভাবে যদি আমরা নিজেদের পরিচালিত করতে পারি তা সবার জন্যই ভাল।

-ডাঃ নাজিয়া হক অনি

(উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখাই লেখকের ধারণা)

শেয়ার করুন:
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.