নারীর জন্য শৃঙ্খল ভঙ্গের শাস্তির প্রকারভেদ

Women in chainsউইমেন চ্যাপ্টার: শৃঙ্খলে জর্জরিত আমাদের নারীরা। সে শৃঙ্খলের রকমফের ভয়াবহ অমানবিক। মা-বাবার শৃঙ্খল থেকে বরের(স্বামীর) শৃঙ্খল অনেক বেশী শক্ত। যদিও আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েরা মনে করে (প্রায়শঃই) থাকে যে রক্ষণশীল মা-বাবার সংসার থেকে বিয়ে করে বরের ঘরে গেলে মুক্তির স্বাদ মিলবে।

বাস্তবে ঘটে তার উল্টো। কিন্তু ততক্ষণে মেয়েদের সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে যায়। মেয়েরা আরো বেশী কঠিন শৃঙ্খলে জড়িয়ে পড়ে। সে শৃঙ্খল লোহার আথবা সোনার হতে পারে। তবে কোন শৃঙ্খলই তখন ভেঙ্গে ফেলা নারীর জন্যে সহজ হয়ে ওঠে না। নিজকে অনেক ক্ষয় করে দিয়ে তবেই কিছুটা মুক্তি মেলে। মা-বাবার শৃঙ্খল ভাঙ্গার শাস্তি খুব ভয়ানক নয়, কিন্তু বর তথা স্বামীর অদৃশ্য বা দৃশ্য শৃঙ্খল ভাঙ্গা নারীর জন্যে, আমাদের এই আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দুরূহ হয়ে ওঠে।

উপার্জনক্ষম নারীর জন্যে তা খানিকটা সহজ হলেও অশিক্ষিত অথবা শিক্ষিত উপার্জনক্ষমহীন,জেদহীন নারীর তখন নিজকে নিঃশ্বেস করে দেয়া ছাড়া বা আত্মহননের পথ ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকে না। স্বামীর শৃঙ্খল ভাঙ্গা মানে শুধূ বকাঝকা নয় বা শারীরিক শাস্তিও নয়। থাকে নিরাশ্রয় হবার আশঙ্কা, ভরসাহীন হবার আশঙ্কা, বিচ্ছেদের আশঙ্কা, সন্তানযুক্ত নারীর সন্তানহীন হবার আশঙ্কা। সমাজ তখন বিষবৃক্ষের মতো মনে করে এই বিচ্ছিন্ন নারীকে। কেননা আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অবিবাহিত নারীর গুরূত্ব অনেক বেশী, বিচ্ছেদী নারীর চেয়ে, তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে। তবে এও খুব সত্য যে শিক্ষিত-সচেতন নারীর পক্ষে স্বামী তথা বর বর্তমান থাকা অবস্থায় জীবনের আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব।

নারীর জন্যে সবচে বড় সহায়ক তার মা-বাবা। কিন্তু আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তা বিরল। এর প্রধান কারণ আমাদের নানাবিধ শিক্ষাব্যবস্থা। সমমনা হয়ে উঠার বা কাছাকাছি মানসিকতা গড়ে উঠার বদলে বহুমুখী মানসিকতাসম্পন্ন মানসিকতার মানুষ গড়ে তোলার জন্যে যেন শিক্ষাবিদরা, রাষ্ট্র অর্থাৎ সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। এতে কিছু ব্যক্তি বিশেষ, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ভোট বরাদ্দ বাড়তে পারে হয়তো কিন্তু রাষ্ট্র নামক সংগঠনটির, সমগ্র জনগোষ্ঠীর কোন কল্যাণই হতে পারে না। এতে এগিয়ে যাবার বদলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনাই শুধু।

নারীর জন্যে এ ধরনের রাষ্ট্র ’কল্পিত’ নরকের মতো। নরকে যাবার জন্যে নারীর তখন দেহগতভাবে মরে যাবার প্রয়োজন পড়ে না। দেহগত মৃত্যুর অনেক আগেই মানসিক মৃত্যু ঘটে তার, আর ভোগ করে নরক যন্ত্রণা, প্রতিমুহূর্তে মৃত্যু ঘটে তার।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.