‘ফ্যাশন শপ-বিউটি পার্লার হলো শয়তানের কারখানা’

IS Brigadeউইমেন চ্যাপ্টার: ফ্যাশন শপ এবং বিউটি পার্লারগুলোকে শয়তানের কারখানা বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেটের নারীদের নিয়ে এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, মেয়েদের নয় বছর বয়সেই বিয়ে দিতে হবে, আর তাদের স্বামীদের আদর্শ বয়স হচ্ছে ১৬ অথবা ১৭ বছর। এবং মেয়েদের মোটেও কাজে যাওয়া উচিত না। মেয়েরা ঘরেই থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি কোন কারণেই মেয়েদের ঘর থেকে বের হওয়া উচিত।

ইরাক এবং সিরিয়ায় কর্মরত অল-ফিমেল আল খানসা ব্রিগেড প্রকাশিত আইসিস নারী জিহাদিদের ইশতেহারটিতে এভাবেই তুলে ধরা হয়েছে নারী জিহাদিদের জীবন।

উইমেন অব দ্য ইসলামিক স্টেট: ম্যানিফেস্টো এন্ড কেস স্টাডি শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের উচিত সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখা এবং পর্দায় ঢেকে চলা। সমাজে যদি চলতেই হয় তবে পর্দা অবশ্যই মানতে হবে।

আইসিস প্রকাশিত এ ধরনের প্রতিবেদন এটাই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতমাসে এটি আরবী ভাষায় জিহাদি ফোরামে প্রকাশ করা হয়। পরে এটি আইসিস এর অল-ফিমেল মিলিশিয়া গঠিত আল-খানসা ব্রিগেডের মিডিয়া উইংয়ে তা গৃহীত হয়। লন্ডন-ভিত্তিক একটি উগ্রপন্থা-বিরোধী সংস্থা কুইলিয়াম ফাউন্ডেশন এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে।

প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলা হয়েছে, এটা ইসলামিক স্টেটের বা এর নেতৃত্বের জারি করা কোন দলিল নয়, এটি হচ্ছে মুসলিম নারী এবং তাদের কাঙ্খিত জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণাপত্র। পাশাপাশি বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া এবং ইসলামিক স্টেটে নারীদের উপস্থিতি কিরকম হওয়া উচিত, তাই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ইশতেহার অনুযায়ী, ‘সাত থেকে নয় বছর বয়সের মধ্যে তিনটি শিক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। তাহলো, উপলব্ধি এবং ধর্ম, কোরআন পাঠ(লিখতে এবং পড়তে শেখা), বিজ্ঞান (হিসাবনিকাশ এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞান)’।

‘১০ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে ধর্ম বিষয়ে আরও পড়াশোনা করতে হবে, বিশেষ করে নারী সম্পর্কিত, বিয়ে এবং তালাক সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান লাভ করতে হবে। বিয়ে এবং তালাকও দুটি বিষয়, সেইরকম টেক্সটাইল এবং সেলাইয়ের দক্ষতাও থাকতে হবে, রান্না অবশ্যই শিখতে হবে’।

’১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সে শরীয়া বিষয়ে আরও শিক্ষা নিতে হবে, শিশুপালনসহ মৌলিক দক্ষতাগুলো অর্জন করতে হবে, আর এতোদিন পর্যন্ত শিখে আসা বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষা এখন এই পর্যায়ে কমিয়ে দিতে হবে। তার বদলে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে, নবীজী এবং তাঁর অনুসারীদের জীবন সম্পর্কে পাঠ নিতে হবে’।

‘নয় বছর বয়সে একটি মেয়ের বিয়ের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সবদিক দিয়ে যোগ্য হয়ে উঠা একটি মেয়ের বিয়ে হতে হবে ১৬ অথবা ১৭ বছর বয়সে। যখন তারা বয়সে নবীন এবং কর্মঠ। অন্যদিকে ছেলেদের বয়সও যেন ২০ ছাড়িয়ে না যায়, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে’।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, নারীদের জন্য পশ্চিমা মডেল ব্যর্থ। যেসব নারী কাজে যায়, তারা সেখান থেকে অন্যায় ধারণা শিখে আসে এবং ধর্ম শেখার পরিবর্তে তাদের মানসিক জগতেও পরিবর্তন ঘটে। মেয়েদের যখনই তাদের ঘরের কুঠুরি থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, তখনই ওই মডেল ব্যর্থ হয়ে গেছে’।

ইশতেহারে ইউরোপের নাস্তিক্যবাদ সংস্কৃতিরও ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে। এর পাঠকদের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন সভ্যতার মিথ্যাচার এবং বস্তুবাদকে অগ্রাহ্য করে এবং তাদেরকে ধর্মীয় জ্ঞানে উৎসর্গ করে। আদর্শ ইসলামি সম্প্রদায় হচ্ছে প্রকৃতির গোপন রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা না করা। তার বদলে শরীয়া আইন বাস্তবায়ন এবং ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করা উচিত সবার।

‘ইবলিশের সৈন্যরা কিভাবে নারীদের বেহেশত থেকে দূরে রাখে’-অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ফ্যাশন করে পোশাক পরা এবং নাক-কান বিঁধানো নিন্দনীয়। এ ধরনের শহরায়ন, আধুনিকতা এবং ফ্যাশন, এসবই ইবলিশের কাজ। স্বামী-সন্তানের সাথে ঘরে থাকাটা হচ্ছে একজন নারীর মৌলিক কাজ। জিহাদি গাইডে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ কোন কারণেই কেবল তারা বাইরে যেতে পারবে, কমিউনিটির কাজ করতে পারবে।

আর পুরুষদের যখন আর জিহাদের কাজে পাওয়া যাবে না, তখনই কেবল নারীরা জিহাদ করতে পারবে। নারী ডাক্তার এবং শিক্ষকদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি এই গাইডে দেয়া হলেও, বলা হয়েছে, কঠোরভাবে শরীয়া আইন মেনেই তারা বাইরে বেরুতে পারবে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘আমরা বলছি যে, তোমরা ঘরে থাকো, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, মেয়েদের অশিক্ষা, পশ্চাদপদতা অথবা অবহেলাকে আমরা সমর্থন করছি। বরং বলা ভালো যে, কাজের মধ্যকার পার্থক্যগুলো আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি, যা কিনা একজন নারীকে ঘরের বাইরে যেতে দেবে। আর পড়ালেখা তার যতটুকু করার, তাই করবে’।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.