তোদের জন্য আমাদের খুব ডিস্টার্ব হয়

Hartal Burnফারহানা রহমান: অফিসে বসে ফেসবুকিং করি। নানাজন নানা কথা লেখে, তাতে মন্তব্য করি, লাইক দেই, কেনাকাটার দোকানগুলোতে ঢুকে জামা কাপড় খুঁজি, বোনের বিয়ে- তাই শাড়ি ব্লাউজের ডিজাইন দেখি। ব্লাউজের কি কাট হলে হট হবে, কিন্তু আগলি হবে না এ নিয়ে কলিগের সাথে লম্বা আলোচনা করি। ওজন কমানো দরকার তাই অফ সিজনে ফলের জুস খুঁজি।

যাক না একটু বেশি টাকা তাতে কি ? সামনে তো বড় ইভেন্ট। সো, নিজেকে সুন্দর দেখানো জরুরি। একটু দামী অার সুন্দর শাড়ির চিন্তায় বুঁদ হয়ে মাঝে মাঝে টিভি দেখি। পত্রিকা হাতে নেই। খুব সাবধানে এড়িয়ে যাই পোড়া সংবাদগুলো। এখন আর মুখ দিয়ে আহা বের হয় না। বের হয় “অসহ্য”।

এই ছবিগুলি আমাকে বিরক্ত করে। আমার প্রতিদিনের সুন্দর চিন্তাগুলির মাঝে একটা কালো দাগ হয়ে উঁকি-ঝুকি মারে। যারা এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে তাদের নিয়ে কিছু মনে হয় না। মনে হয়, যারা বের হয়েছে দোষ তাদেরই।

ভাবি, তোরা কেন বের হলি বাবা, কি দরকার তোদের বের হওয়ার ? বাসায় ঘাপটি মেরে থাক। বাঘের মতো নয়, শুয়োরের মতো। নিজের ঘরের কাদায় হুটোপুটি কর।  এত সাহস হয় কেন বের হওয়ার?

পেটের টানে বের হচ্ছিস মানে কি? এটা কোনও ব্যাখ্যা এত বড় দাবির কাছে? নির্বাচন, ক্ষমতা এগুলো কিছু বুঝিস মুর্খের দল? তোদের ১০০ টাকা রোজগারের জন্য যে তেনারা বিলিয়ন ডলার খোয়াচ্ছেন সেসব কিছু বুঝিস?

তোর অন্ধ মা, আধা নাঙ্গা বাপ, লুলা স্বামী, পোয়াতি বউয়ের ওষুধ, খা্বার জোগারের জন্য  তাদের এত বড় প্রোগ্রাম ধুলিসাৎ করবি? তোদের বাচ্চারা পড়ে অখ্যাত অগা-মগা স্কুলে। সেখানকার কি এক মেট্রিক পরীক্ষার জন্য তোরা লাফাচ্ছিস। তোরা পড়লেই কি আর না পড়লেই কি।

সোসাইটি, দেশ তেনারা চালান। তেনাদের ছাওয়ালগুলি দেশের বাইরে পড়ছে বলে তোদের গা জ্বলে, এটাতো বুঝি। সেজন্যই সমান হতে পড়াশোনা করাতে চাস। এসব হাউস তোদের মধ্যে আসে কি করে? তোদের বাপ দাদারা তেনাদের স্বামী, বাবাদের, সেই সাথে তেনাদেরও পা চেটেছেন। তোরাও তো তাই হবি বড় জোর। তাহলের তোদের এত দৌড়াদৌড়ি কেন?

ঘরে থাকতে বলছে ঘরে থাক। ক্ষিদা লাগলে পেটে খিল দিয়ে থাক। অসুখ হলে মাটি কামড় দিয়ে ব্যাথা কমা । তবু বের হোস না। আমাদের খুব ডিস্টার্ব হয়। তোদের কালো কালো ছবি গুলি বিবেকের কোথায় যেন সুড়সুড়ি দেয়। বড্ড উইয়ার্ড ফিল করি।

লেখক: সাংবাদিক

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.