সন্তানের পরীক্ষা এবং একটি প্রশ্ন

Question 4নিগার সুলতানা: একমাত্র ছেলেকে বিদেশে রেখে নিজের বেশ কষ্ট হয়। নানা চিন্তা ভর করে মাতৃত্বের ভালোবাসার টানে। তবে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া , হরতাল অবরোধের কারণে স্কুল যাওয়া বন্ধ দেখে মনটা বিষন্নতায় ছেয়ে যায়। মনে হয় কোন আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি আমরা!

যখন আমাদের রাজনীতিবিদরা বলে কিসের পরীক্ষা? আগে আন্দোলন। তখন স্বার্থ পরের মতো নিজে নিজেকে এই বলে সান্তনা দেই, হোক নিজের কষ্ট ,আমার সন্তান তো বিদেশে সময় মতো পরীক্ষা দিবে। আর পাশ করে ঠিক সময়ে শিক্ষা জীবন শেষ করবে।
একটি পরিবার তার সন্তানদের আগামী দিনগুলোকে নিশ্চিত করার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে ভালো শিক্ষা দেবার। আর সে মুহূর্তে যখন ও- লেভেল , এ -লেভেল পরীক্ষা এক বছরের জন্য পিছিয়ে যায়, এসএসসি পরীক্ষার তারিখ বদলে যায়, তখন সে পরিবারটা কতটা হতাশাগ্রস্ত হয় তা কি একবারও ভেবে দেখছে আন্দোরনকারী দল?

বরং বিগত দিনের উদাহরন টেনে বলা হয় অতীতে এমন পরীক্ষা অনেকবার পিছিয়েছে। কিন্তু এটা কী কোন বিবেকবান লোকের বক্তব্য হতে পারে? এসএসসির পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যে সময় মতো হবে তার নিশ্চিয়তা এখন পর্যন্ত নেই। তার কারণ হলো এ বিষয়ে আন্দোলনরত দল কোন পরিস্কার বক্তব্য এখন পর্যন্ত দেয় নাই।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা একজন মা হিসাবে নিজের সন্তানের পড়ালেখার নিশ্চিয়তা জেনেও শান্তি পাই না। আর লক্ষ সন্তান তাদের জীবন থেকে যে সময়টুকু নষ্ট করছে তার দায় ভারটুকু আগামী দিনে নিতে হবে তাকে এবং তার পরিবারকে। কোন রাজনৈতিক দল তাদের এ পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছে না । বিশ্বায়নের যুগে এই পিছিয়ে পড়ার রেশটুকু সহজে শেষ হবে না জেনেও রাজনীতির নামে ধ্বংস করছে একটি জাতিকে ।

একটি স্বাধীন দেশে রাজনীতির যে অপসংস্কৃতির কার্যক্রম চলছে, তা থেকে আগামী প্রজন্ম কি শিক্ষা নেবে এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলসমূহ থেকে? এর কোন উত্তর রাজনৈতিক দলগুলো কি দিতে পারবে? এরপর নতুন প্রজন্ম রাজনীতি থেকে মুখে ফিরে না নেবার কোন যুক্তি কি আছে?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.