RFL

হুজুরের কি নারী নেতৃত্বে এলার্জি?

0

শারমিন জান্নাত ভুট্টো: একটি সংবাদে চোখ আটকালো। তা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কোন নারী নেতৃত্ব রাখার পক্ষপাতি নয় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নামে একটি ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ৮ই জানুয়ারী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে তারা নারী নেতৃত্ব নিয়ে তাদের এলার্জির কথা জানিয়েছে।

শুধু তাই নয়, দলটি জানিয়েছে, নির্বাচনে অনেক চাপ থাকে, তাই এর ভার ও গুরুত্ব বহন করা নারীদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না বলেও মনে করে তারা। ভাগ্যিস হুজুর তার এ দাবী প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে প্রকাশ করে নাই। নারীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঠিকমতো নেতৃত্ব দিবে না বলে যে মত প্রকাশ করেছে হুজুর, ধরে নিলাম তা ঠিক। তার মানে তো এই যে, পুরুষরা দায়িত্বে থাকলেই যেকোনো কিছু একেবারে সহজ-সরলভাবে চলার কথা।

শারমিন জান্নাত ভুট্টো

তো হুজুর, আপনাদের এই যে দল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তা তো পুরুষদের নেতৃত্বেই এগিয়ে চলছে। তাহলে আপনাদের দলে কেনো এতো অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজমান? প্লিজ হুজুর, সময় থাকলে প্রশ্নের উত্তরটি দিতে ভুলবেন না যেনো।

১৯৮১ সালে হাফেজ্জি হুজুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ এই ৩৬ বছরে দলটির ৩৬টা আরে ধুর ৬টা কার্যক্রমও চোখে পড়ে নাই। হুংকার একবার-দুইবার যা দিয়েছে দলটি তাও আবার খাঁচার ভেতরে থেকেই আর অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ছায়ায় থেকে।

শুধু তাই নয়, নিজেদের দলে নেতৃত্বের কোন্দলের কারণেই দলটি ভাগ হয়ে তিন টুকরা হয়ে গেছে। খেলাফতে আহমদিয়া, খেলাফতে জাফরিয়া আর খেলাফতে মালেকিয়া নামে এ তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের সমর্থকদের নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে হুজুর আপনাদের এতো চুলকানি, অথচ আপনাদের নিজেদের নেতৃত্বে যে দল চলছে সেখানে সিফিলিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পরও তো কেন চিকিৎসা বা সুরাহা করছেন না! উল্টো কথা বলতে আসছেন নারী নেতৃত্ব নিয়ে।

ও আরেকটি কথা তো বলতে ভুলেই গেছি। হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মাদ্রাসা, মসজিদ কমপ্লেক্স ও দোকানের ভাড়া বাবদ মাসিক প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হয়। আর এ টাকা-পয়সা লেনদেন ও তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েই কিন্তু দলটির মাঝে এতো ঝামেলা। কারণ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে বা যারা খেলাফত আন্দোলনের দায়িত্বে থাকবেন তারা ঐসকল মাদ্রাসা, মসজিদ ও দোকানেরও পূর্ণাঙ্গ অধিকার পাবেন। হুজুর, আপনারা ধর্ম প্রচার করেন, অথচ আপনাদের মাঝে টাকা-পয়সা নিয়ে লোভ-লালসার একচুলও তো কমতি দেখি না। আফসোস আমাদের দেশের নারীরা আপনাদের মতো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করার ফন্দিটা এখনও আয়ত্ত করতে পারেনি। যেদিন পারবে সেদিন হয়তো আপনারাও তাদের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারবেন।

যাই হোক, এখন যদি হুজুরদের কথার সাথে একমত প্রকাশ করি তাহলে যাদের যাদের দায়িত্ব থেকে এখনই পদত্যাগ করা উচিত তারা হলেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, পাঁচজন নারী প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিরোধী দলীয় নেত্রী, বিএনপি নেত্রী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিচারপতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন নারীরা।

তাও ভালো যে আপনারা পট করে বলে বসেন নাই যে, বাংলাদেশে কোন নারীই থাকতে পারবে না। অবশ্য সেটা বললে আপনাদের সংসার-ধর্ম আর খেদমতই বা করবে কে? ভবিষ্যত প্রডাকশন চালু রাখতে হলেও তো আপনাদের জীবনে নারী দরকার। তারপর সেই প্রডাকশন আপনাদের মতো পুরুষদের নেতৃত্বে শিখবে- ও তে ওড়না আর ছাগলের গাছে উঠে আম খাওয়ার কৌশল।

যতোই অভিযোগ আর অনুযোগ করা হোক না কেনো, নিজেদের স্বার্থের জন্য খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য বাঘা বাঘা ইসলামভিত্তিক দলগুলোও ক্ষমতায় থাকা নারী নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জোট করতে পিছপা হন না, তা আর নতুন করে বলার কী বা আছে!!!

নারীরা আজ তাদের নিজ যোগ্যতায় চৌকাঠ থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে নিজের, পরিবারের আর দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। সময় এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলার আর অসাধ্যকে জয় করার। যেখানে নারীরা মহাকাশে পর্যন্ত ঘুরে আসছে সেখানে ধর্মভিত্তিক দলগুলো সহজ-সরল আর ধর্মান্ধ মানুষদের বুঝাচ্ছেন চাঁদে নাকি তাদের প্রিয় নেতার ছবি দেখা গেছে। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যেখানে এসব নেতার জন্য টাইম মেশিনের অর্ডার দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছি না।

দেখেন, পান চিবোতে চিবোতে আর টাইম মেশিনে চড়ে ১৪০০ সালে পৌঁছে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন কিংবা পরিবর্জন করতে পারেন কিনা। হুজুর, আপাতত এ কাজে মনোনিবেশ করলেই হবে, নারী নেতৃত্ব নিয়ে আপনাদের মাথা না ঘামালেও চলবে।

 

লেখাটি ৭১৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.