যে জীবন নারীর, পুরুষের তার সাথে হয়না কো দেখা…

0

নাহিদ খান: হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, প্রতিকূলতার সাথে একলা লড়াই, বারবার হেরে গিয়েও ফিরে আসা, কতোবার লুকিয়ে একাকী কান্না এসব মিলিয়ে পাঁচবছর পেরোবার পর নিজের বুটিকের হিসেব মিলাতে গিয়ে লুবনা ঘাবড়ে যায়। দেখা যাচ্ছে তিনজন মাসকাবারি কর্মচারী, চল্লিশ-পঞ্চাশজন কারিগর, ঘরভাড়া ইত্যাদি সব খরচের পরেও বুটিকের লাভ সম্ভবতঃ লুবনার বর পলাশের বেতনের চে বেশি। লুবনা খানিকটা অস্বস্তি বোধ করে। আহা পলাশের কি একটু খারাপ লাগবে!

যদিও লুবনার বুটিকের পাগলামিতে পলাশ এই পাঁচ বছরে অসংখ্যবার তাকে এম এ পাশ দর্জিনামে ডেকেছে, দেনার খাদের মুখে পড়ে যাবার পর যথেষ্ট হয়েছে, এবার সংসারে মন দাওবলেছে, ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে বলেছে তোমার মুখ দেখে লোন দেবেতবু লুবনা পলাশের খারাপ লাগার কথা ভেবে বিষন্ন বোধ করে।

শুধু লুবনা না, তমা, ব্যাংক কর্মকর্তা তমা, তার সরকারি চাকুরে স্বামী বলে, ব্যাংকে আবার কী কাজ, কেরানিগিরি, টাকা মেলানো, মাথার ভেতর ঘিলু আছে কী নেই তার খোঁজ পড়ে না কখনো। তমা ঋজু গলায় বলে আমি তো তোমার চাকরি নিয়ে অসম্মানজনক কিছু বলি না কোনোদিন, তুমি বলো কেনো

আবার পলিন, যে নিজে মন্ত্রণালয়ে সরকারের অন্যতম ব্যস্ত কর্মচারী তার প্রাইভেট চাকুরে স্বামী বলে হুহ, সরকারী চাকরি কোনো চাকরি, সারাদিন চোখ বুঁজে সই-সাবুদ করে কাটিয়ে দিলেই হয়

ইরিনা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যস্ত নির্বাহী, তার ব্যবসায়ী স্বামী বলে ধুর এইসব ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের কাজ আমার জানা আছে, সাজগোজ করে খালি মিটিং, পলিসি ডায়লগ, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারনেটে পড়ে থাকা

অতঃপর কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য একদিন কোনো সাংবাদিক লুবনা, তমা, পলিন বা ইরিনার সাক্ষাৎকার নিতে এলে এইসকল নারী অভিনেত্রী গলার স্বর একটুও না কাঁপিয়ে বলে পরিবারের, বিশেষ করে স্বামীর সাপোর্ট না পেলে আমি এ কাজ করতে পারতাম না। তাদের বুকের গহীন গভীরে স্বামীদের সেসব বাণী ধ্বনিত হয়- হুহ কি এমন হাতি-ঘোড়া চাকরি করো’! সেসব গভীর বাণী পাথরচাপা দিয়ে অভিনেত্রী কর্মজীবী নারীরা নিজের পুরুষের প্রশস্তি করেন বেকুব সাংবাদিকের কাছে।

তারপর সে সংবাদ ছাপা হলে ঘরফেরত স্বামী লুবনা, তমা, পলিন, ইরিনাকে বলে এই চা দাও, নাকি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার ছেপেছে দেখে ঘরের কাজকর্ম আর করবে না। লুবনা, তমা, পলিন, ইরিনা এবং আর সকল কর্মজীবী নারী, যারা প্রত্যেকে সুনিপুণ অভিনেত্রী, গলায় হাসি ফুটিয়ে বলে কী যে বলো না…

মনে মনে বলেন – ‘নিজেকে কেনো ছোট করো, আমি তো তোমাকে অনেক বড় ভাবতে চাই’!!

লেখাটি ১,২৯১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.