যুদ্ধদিনের নারী: আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব

0

মোহছেনা ঝর্ণা: চির বিশ্বাস নামে একজন চাপাতা ব্যবসায়ীর ব্যবসা ছিল জুবিলী রোডে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পেছনেই ছিল তার বসতবাড়ি। লা এপ্রিলের দিনে শোনা গেল জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অসংখ্য সৈন্য ডিসি হিলের উপরে উঠছে।

কেউ সন্দেহ করছে হয়তো পাঞ্জাবী সৈন্য, কেউ বললো হয়তো ইপিআর বাহিনী, আবার কেউ বললো হয়তো বেংগল রেজিমেন্ট সৈন্যরা। চির বিশ্বাসের স্ত্রী প্রকাণ্ড এক কেটলি চা বানিয়ে এক ঝুড়ি বিস্কুটসহ ছেলেমেয়েদের বললেন, তোমরা এই চা বিস্কুট নিয়ে ডিসি হিলে ফেরিওয়ালার বেশে যাও। যদি দেখো বাঙালি সৈন্য, তাহলে এগুলো তাদের এমনিই খাইয়ে আসবে, আর যদি দেখো পাকসেনা, তাহলে কিছু বললে বলবে, চাবিস্কুট বিক্রি করতে এসেছো।

এই যে একজন নারী তার সন্তানদের কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই দেশের কাজে নিয়োজিত করে দিলেন, এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আসল গল্প। মায়েদের মনে ভয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভয়কে জয় করে তারা তাদের বুকের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেন দেশ মাকে বাঁচানোর জন্য।

১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশ গ্রহণের কথা বললে সবাই কেবল পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের কথাই বলে, কিন্তু এদেশের অনেক নারী যে অনেক সাহসী এবং বীরোচিত ভূমিকা পালন করেছে সে ইতিহাস এখনো সেভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি বলে আমাদের অনেক বীর নারী যোদ্ধার কথা আমাদের অজানাই রয়ে গেছে। মূলত সেই খেদ থেকেই অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার উত্তরাধিকারী চট্টগ্রামের নারীরা যে মুক্তিযুদ্ধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সে বিষয় নিয়ে বেগম মুশতারী শফী লিখেছেন সত্য এবং ইতিহাস নির্ভর বইমুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী

বেগম মুশতারী শফী ,তাঁর এই বইতে  মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা যে কয়জন নারীর কথা তুলে ধরেছেন, তাঁরা হলেন, মনি ইমাম, রওশন আরা মোস্তফা, জাহানারা ইউসুফ, ডাঃ শামসুন্নাহার কামাল, সালেহা চৌধুরী, ডা. রেনুকণা বড়ুয়া, আতিমা মাওলা, রিজিয়া বেগম, জাহানারা আংগুর, রায়হানা শফি, দিলারা ইসলাম, শ্রীমতী মিনা বিশ্বাস এবং শ্রীমতী নিরবালা দেবী

নারীর সংগ্রাম, আন্দোলন, ত্যাগের কথা বললে প্রথমেই চলে আসে অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার কথা। বীরকন্যা প্রীতিলতা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কর্মী, অন্যতম নেত্রী। পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফল অভিযান পরিচালনা করে ফেরার পথে ধরা পড়েন প্রীতিলতা। কিন্তু শত্রু পক্ষের কাছে যেন অক্ষম হয়ে কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ না করে ফেলেন এই ভাবনা থেকেই নিজের সঙ্গে রাখা পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন এই বীরকন্যা। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধেও ১৯৩২ সালে অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার দেখানো পথ ধরেই হেঁটেছে এদেশের মেয়েরা।

মনি ইমাম: প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় নাট্য শিল্পী মনি ইমামের কথা।চট্টগ্রামের অনেক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।প্রান্তিক, জাগৃতি এবং বান্ধবী সংঘের অনেক মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। চট্টগ্রাম বেতারেও অভিনয় করতেন। ২৯ মার্চ, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের লাল খাঁ বাজারের পাশে থাকা পুলিশ লাইনের পাহাড়ের উপরে পাকিস্তানি সৈন্যরা আক্রণ করে। সে সময় মনি ইমামদের বাড়িতে দুজন আহত পুলিশকে আশ্রয় দেয়। মনি ইমামের ছোট ভগ্নিপতি ডা. গোলাম মোস্তফা আহত পুলিশদের ক্ষতস্থান থেকে গুলি বের করে তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসা করেন।পরদিন মনি ইমাম বাসার কাজের ছেলেটাকে খাবার পানি আনার জন্য বাইরে পাঠানোর পর অনেক্ষণ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন ছেলেটি ফিরে আসছিল তখন মনি ইমামের স্বামী আলী ইমাম নিজেই বেরিয়ে পড়লেন ছেলেটিকে খুঁজতে। তার সাথে সাথে বের হলেন তাঁর ভায়রা ভাই ডাঃ মোস্তফা। তাঁরা বাইরে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। সেই প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ সারা জীবনের জন্য স্তব্ধ করে দেয় মনি ইমামের জীবন। শহীদ হন কাজী আলী ইমাম এবং ডা. গোলাম মোস্তফা

জাহানারা ইউসুফ: মুক্তিযুদ্ধের আরেক যোদ্ধা জাহানারা ইউসুফ। যুদ্ধে হারিয়েছেন স্বামী কাজী ইউসুফ এবং বড় পুত্র কাজী মো: সাদিক হাসান, যাকে মা জাহানারা ইউসুফ ডাকতেনবড় বাবুজীনামে। বড় বাবুজী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্র নেতা আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে শান্ত-শিষ্ট ছেলে বড় বাবুজীও সংগ্রাম মুখর হয়ে উঠেন। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কত চেষ্টা করলেন, কৌশল করলেন, তবু পারলেন না শেষ রক্ষা করতে

ডা. শামসুন্নাহার কামাল: আরেকজন বীর নারী ডা. শামসুন্নাহার কামাল। যুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে চিফ মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বন্দরের শ্রমিক, কর্মচারী যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ডা. শামসুন্নাহার ছিলেন তাদের বিশ্বস্ত সহযোগী।  

ডা. রেণুকণা বড়ুয়া:  ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে হাসপাতালে এসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসেবে যোগদান করেন ডাঃ রেণুকণা বড়ুয়া  ।তাঁর স্বামী সুপতি রঞ্জনও ছিলেন ইস্টার্ন রেলওয়ের ফিনান্স এডভাইজার। রেণুকনা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত করেন নিজেকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনে, চিকিৎসা দিতে নির্দ্বিধায়, নির্ভয়ে ছুটে যেতেন গভীর জংগলে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

রিজিয়া বেগম:  ৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর কৃত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করে পাকসেনারা যখন শহরের দিকে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে আরো অনেকের সাথে এক হয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন রিজিয়া বেগম নামের বীর নারী

জাহানারা আঙুর: জাহানারা আঙুর নামের অত্যন্ত সাহসী এই নারী গ্রামে গিয়ে পাড়ায় পাড়ায় বক্তৃতা দিতেন যেন গ্রামের যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়।গোপন মিটিং করে তিনি যুবকদের রিক্রুট করে তিনি ভারতে পাঠাতে লাগলেন ট্রেনিং নিতে।ভারত থেকে গেরিলা যোদ্ধারা এসে গোপনে যোগাযোগ করত জাহানারা আঙুরের সাথে।আঙুরের দেয়া গোপন খবরের ভিত্তিতে গেরিলারা পাকসেনা ছাউনির উপর দু:সাহসিক হামলা চালায়।
এরকম সাহসী ভূমিকার কারণে মুক্তিযোদ্ধারা অনেকবার তাকে ভারতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।কিন্তু তিনি বললেন, তিনি দেশের মাটিতে থেকেই যুদ্ধ করতে চান

আতিমা মাওলা: আতিমা মাওলা নামের আরেকজন বীর নারী মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঁশখালীতে থাকা অবস্থায় গ্রামের মেয়েদের সংগঠিত করে ট্রেনিং দেয়া শুরু করলেন।শত্রু আক্রমণ করলে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে, সুযোগ পেলেই দা, বটি, ছুরি দিয়ে কিংবা দূর থেকে হাত বোমা ছূঁড়ে কিভাবে পালটা আক্রমণ চালানো যায় ব্যাপারে গ্রামে থাকা মেয়েদের ট্রেনিং দিয়েছিলেন আতিমা মাওলা। আতিমা মাওলার স্বামী এনায়েত মাওলাও মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ছেলেমেয়েকে ট্রেনিং দিয়েছিলেন। নাসিরাবাদে অবস্থিত নিজেদের বাড়িকাকলীমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন। সে বাড়িতে একসাথে ছিল ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা।পাকসেনাদের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে সে ২২ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যেই ২১ জনই প্রাণ হারান

শ্রীমতি মীনা বিশ্বাস: অনেকটা অভিমান ভরা কন্ঠ নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশ গ্রহণের কথা বলেন শ্রীমতি মীনা বিশ্বাস।বলেন, আমার আর অবদান কি! অবদান যদি বলেন,তাহলে আমি মনে করি আমার বড় অবদান, আমার সোনার টুকরা ছেলে অতনুকে দেশের স্বাধীনতার বেদিমূলে উৎসর্গ করেছি এটুকুই।

তাঁদের এটুকুই আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।তাঁদের এই ত্যাগ, এই সাহস, এই দেশ প্রেমের কথা এদেশ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে সারাজীবন।

নীরবালা দেবী: ৭১ সালে চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার মধ্যম নাথ পাড়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিহারিরা মিলে একই দিনে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ হত্যা করেছিল সেই নাথ পাড়ার এক বীর নারী হলেন নিরবালা দেবী ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর বিহারিরা এই বীর নারীর চোখের সামনে একে একে খুন করেছে তাঁর শ্বশুর বৃদ্ধ হরিরঞ্জন নাথ, স্বামী ক্ষিরোদরঞ্জন নাথ এবং কলেজ পড়ুয়া দুই পুত্র বাদলকান্তি নাথ দুলাল কান্তি নাথকে কি নির্মম ভাবে বিভৎস কায়দায় মায়ের সামনে ছেলেদের খুন করেছে সেই বৃত্তান্ত পড়তে পড়তে গলা শুকিয়ে আসছিল নির্মমভাবে খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি হায়েনার দল সবাইকে খুন করার পরে তাদের রক্ত দিয়ে ওই জানোয়ারেরা রক্তস্নান করিয়েছিল নীরবালা দেবীকে

৭১ এর ৩১ মার্চ, কিছু পলাতক ইপিআর এসে উঠলো দক্ষিণ কাট্টলির নাথ পাড়া আব্দুর পাড়ায় কেউ কেউ ওদেরকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করল, কেউ কেউ ইতস্তত করছিল, তখন নিরবালা দেবী এগিয়ে এসে বললেন, ওরা( ইপিআর) দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, ওরা আমাদের সন্তান ওরা এসেছে আমাদের কাছে আশ্রয়ের জন্য আর আমরা ওদেরকে হিংস্র দানবের মুখে ঠেলে দেবো?

এরকম সহস্র নিরবালা দেবীরা বুক পেতে দিয়েছেন বলেই কিন্তু আজকে আমাদের এই স্বাধীনতা, এই পতাকা, এই পবিত্র মাটিতে আমরা প্রাণ ভরে নি:শ্বাস নিতে পারি সশ্রদ্ধ সালাম এই সব সাহসী মায়েদের প্রতি

এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মায়েরা, বোনেরা, বীর নারীরা যার যার জায়গা থেকে যে আত্মত্যাগ করেছেন, লড়াই করেছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যানটা পাওয়া যায়না বলেই হয়তো মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণের চিত্রটা ঠিক সেভাবে ফুটে উঠেনি।

সে অভিমানই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লেখকের কন্ঠে দেশজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যে যেখানেই যাক না কেন, প্রীতিলতার উত্তরসূরি চট্টগ্রামের নারী শুধু প্রাণ ভয়ে নিষ্ক্রিয় বসে থাকেনি কোথাও।কেউ স্বাধীন বাংলা বেতারে শিল্পী শব্দ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেছেন। কেউ সশস্ত্র যুদ্ধে ট্রেনিং নিয়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। কেউ মুক্তিবাহিনীরর ক্যাম্পে হাসপাতালে চিকিৎসা নার্সের কাজ করেছেন।দেশের ভিতরে যারা ছিলেন তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাদ্য দিয়ে, শীত বস্ত্র সংগ্রহ করে দিয়ে, পাকবাহিনীর অবস্থানের খবরাখবর সংগ্রহ করে, মুক্তিবাহিনীরর কাছে পৌঁছে দিয়ে ইত্যাদি নানা রকম দু:সাহসিক কাজের স্বাক্ষর রেখে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যময়। আর এভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে কত নারী হয়েছেন নি:স্ব, সর্বহারা। কেউ ভাই, কেউ পিতা, কেউ স্বামী, কেউ পুত্র কন্যাকে করেছেন স্বাধীনতার বেদিমূলে উৎসর্গ, তার সঠিক পরিসংখ্যান আজো নির্ণয় হয়নি।কত নারী হয়েছে ধর্ষিতা, কত নারী তার গর্ভে ধারণ করেছে বর্বর পাকিস্তানি হায়েনাদের নির্যাতনের বীজ, তারও সঠিক হিসাব লেখা নেই। কত নারী দেশীয় রাজাকার আলবদর পাকসেনাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন, তারও সঠিক কোনো হিসাব পাওয়া যায় না।”  

বেগম মুশতারী শফী নিজেও একাত্তরের হারান স্বামীকে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাইকে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে  নিজেও বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেছেন, যুদ্ধ দিনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে হেঁটেছেন, দেখেছেন অনেক মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, নিজে বাঁচার সংগ্রাম, দেশ মাকে বাঁচানোর সংগ্রাম।তাঁর বাড়ি “মুশতারী লজ” মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাসের সাক্ষী।এই বইতে লিপিবদ্ধ সব বীর নারীর সাথে তিনি নিজে সরাসরি কথা বলে এই বই রচনা করেছেন বলেই হয়তো অনেক আবেগঘন ভালোবাসা আর অভিমানের কথাও আছে বইতে। বইতে যুদ্ধ দিনের কথা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল উত্তাল সেই দিনগুলোতে যেন আমিও একাত্ম হয়ে গেছি।

বেগম মুশতারী শফী’র এই বইতে স্বল্প পরিসরে হলেও আমরা ক’জন বীর নারীর মুক্তিযুদ্ধের সাহসী গল্প জানতে পারলাম। এই বইই একদিন এদেশের ইতিহাসের অসামান্য দলিল হিসেবে কাজ করবে। চমৎকার এই বইটি পড়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারীদের বীরোচিত ভূমিকার কথা জানতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। পাশাপাশি লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কষ্ট সাধ্য এই সত্য এবং দুর্লভ ইতিহাস আমাদের উপহার দেয়ার জন্য

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.