RFL

সিঙ্গেল প্যারেন্টিং: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত -১

0

লীনা হাসিনা হক: কদিন আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেল সিঙ্গেল প্যারেন্টিং বিষয়ে কথা বলা জন্য ডেকেছিল। লাইভ শো এর আগে বসে বসে বাংলা ভাষায় সিঙ্গেল প্যারেন্টিং এর কোন যুতসই প্রতিশব্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মনে মনে আরো বেশ কিছু শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে পেলাম না।

আবারো নুতন করে জানলাম যে নারী অধিকার বা মানুষের অধিকার সংক্রান্ত অনেক ইংরেজী শব্দের প্রতিশব্দ বাংলা ভাষায় নাই। কিছু যাও আছে, সেগুলোর প্রচলন বহুল নয় আর বেশ ভারিক্কী, সেইসব শব্দের মাধ্যমে সঠিক অর্থটা বোঝা বা বুঝানো বেশ কঠিন।

লীনা হাসিনা হক

আসলে অনেক ইংরেজী শব্দই বাংলা করে ফেললে সেই শব্দের অর্থের মাত্রাটা অনুভব করা যায় না। আর দরকারই বা কী? তাছাড়া আমাদের সমাজ বদলাচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রা, মানুষের ধারণা বদলাচ্ছে।

নুতন নুতন জীবনবোধ, জীবনের নানা দিকের সাথে পরিচিত হচ্ছি আমরা, কাজেই সেইসব শব্দ আমাদের ভাষার ভাণ্ডারে এখনো নাই। তাই বলে কি সেই সব নুতন ধারণা, আচরণ আমরা মেনে নিচ্ছি না? তাহলে শব্দ নিয়ে অকারণ শব্দ তৈরি না করে বরং বিষয়ে মন দেই।

টেলিভিশন প্রোগ্রামে যদিও নারী সিঙ্গেল প্যারেন্টদের নিয়েই কথা বলেছিলাম, কিন্তু সিঙ্গেল বাবাদের কথাও বলা প্রয়োজন। যদিও এখনো আমাদের সমাজে একাকি বাবা সন্তান লালন-পালন করছেন, এমনটি খুব বেশী একটা দেখা যায় না। এখানে আমি স্বামী বা স্ত্রী মারা যাবার কারণে যেসকল নারী-পুরুষ একলা জীবনযাপন করছেন তাঁদের কথা বলছি না।

মানি বা না মানি, এটা সত্য যে সমাজ বিধবা বা বিপত্নিকদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল। কিন্তু যখন কোন নারী পুরুষ বিবাহিত জীবন ছিন্ন করেন, তাঁদের দিকে সমাজের দৃষ্টি এখনো খর।

সব সমাজেই দুজন নারী-পুরুষ যখন তাঁদের যৌথজীবন ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন মূল সমস্যা দেখা দেয় সন্তানদের লালন-পালন বিষয়ে। যদিও বাংলাদেশে আইনের অধিকারে মা পুত্র সন্তানকে সাত বছর এবং কন্যা সন্তানকে চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের অভিভাবকত্বে রাখতে পারেন। ওই বয়সের পরে সন্তানের ইচ্ছাসাপেক্ষে সে মা বা বাবার সাথে থাকতে পারে।

সেক্ষেত্রে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য আদালত থেকেই একটি ভাতার পরিমাণ ঠিক করে দেয়া হয় যেটির দায়িত্ব বাবার। কিন্তু অভিভাবকত্ত্ব আর লালন-পালন দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় বলেই আমার কাছে মনে হয়।

আবার ইংরেজী কাস্টডি আর বাংলা অভিভাবকত্ব কি এক বিষয়? আমাদের দেশে কাস্টডিকেই অভিভাবকত্ব বলে থাকি আমরা। কাস্টডি যেনো এখতিয়ারে থাকা বা ভরণপোষণ আরঅভিভাবকত্ব বলতে আমার মনে হয় সন্তানটিকে আদরে শাসনে শিক্ষায় সহবতে মূল্যবোধে বড় করে তোলা।

বাদ দেই এই সব শব্দের খেলা। বরং জানতে চেষ্টা করি যে একজন একাকি মা বা বাবা কিভাবে সামাল দেন এই গুরুদায়িত্ব। আজকাল চারিদিকে শুনি ও দেখি যে জেনারেশন গ্যাপের কারণে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বুঝে উঠতে পারেন না মা-বাবা।

মা-বাবার যৌথ দেখভালের পরেও সন্তানরা ঠিকভাবে বেড়ে উঠছে না, নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে সন্তান আর মা বাবার মধ্যে। কিভাবে সামলান এই দায়িত্ব একজন একাকি মা বা বাবা?

আমার আশেপাশের একাকি মায়েদেরকে দেখি, জীবনবাজি রাখছেন তাঁরা সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় মূল্যবোধে বড় করে তুলবার জন্য। চাকরি, সংসার, যাবতীয় সামাজিকতা সবকিছুর উপরে সন্তান। চাকরি সামলে সন্তানকে স্কুল, কোচিং সেন্টারে আনা নেয়া, তার সকল আবদার (অনেক সময় অন্যায় আবদার) পূরণ করার চেষ্টা করেন। একাকি মায়ের সবটুকু চেষ্টা থাকে যেন সন্তানটি পড়ালেখায় ভালো করে, ভালো সঙ্গ পায়, কোন ধরনের মাদক বা কুঅভ্যাসে আসক্ত না হয়। সন্তানের প্রতিটি চাহিদা আপ্রাণ চেষ্টায় সব থেকে ভালোভাবে পূরণ করার চেষ্টা থাকে মায়ের। নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও সন্তানের চাহিদা পূরণ করেন বেশিরভাগ একাকি মা। সারাক্ষণ চেষ্টা থাকে সন্তান যেন কোনমতেই না ভাবে যে, বাবা সাথে থাকলে সে আরো সাচ্ছন্দে থাকতো!

বিশেষ করে যেসব একাকি মা তাঁর প্রাক্তন স্বামী অর্থাৎ সন্তানের বাবার কাছ থেকে কোনরকম আর্থিক সহায়তা পান না, বা নেন না। এটাও অনেক সময় দেখি যে, মায়ের প্রাণপাত পরিশ্রমে বাহুল্যে আয়াসে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা সন্তান কিভাবে মাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করছে।

দেখি কিভাবে মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, মায়ের কাছে তথ্য লুকাচ্ছে। সন্তানকে দোষ দিবো না আমি, নিজের অজান্তেই সে নিজের ভেতরের ফ্র্যাংকেনস্টাইনকে প্রকাশ করছে বেচারা। দেখি সেই মায়ের অমানবিক কষ্ট।  একাকি জীবনের বেদনা, আর্থিক চাপ, চাকরি সামলানো, সামাজিক চাপ তার উপরে প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানের দিক থেকে মানসিক চাপ, মা’টি কিভাবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন ভেবে আকুল হই।

সুখের চিত্রে দেখি, একাকি মা-বাবার সন্তান প্যারেন্টের কষ্টের সমভাগী হচ্ছে। অনেক একাকি মায়ের সন্তানকে দেখেছি নিজের হাত-খরচ নিজে উপার্জন করছে হয়তো টিউশনি করে, বা ছোটখাটো কোন কাজ করে। সংসারে মায়ের কাজে সাহায্য করছে। বাবার সাথে সংসারের কাজ করছে। লেখাপড়ায় ভালো করছে, পরীক্ষায় ভালো ফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। মাকে, বাবাকে আদরে সম্মানে ভরিয়ে তুলছে। ভিন্ন থাকা মা-বাবার সাথেও হয়তো এক ধরনের সহজ সম্পর্ক বজায় থাকছে এই পরিবারে।

চোখ ফিরিয়ে আরেকদিকে দেখি, মা-বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে যে সন্তান বাবার সাথে থাকছে, দাদার বাড়িতে অতি আদরে সে বখে যাচ্ছে। বাবা হয়তো আবার সংসার পেতেছেন বা পাতেননি, কিন্তু সন্তানের আদরে ভাটা পড়েনি বরং এখানেও সেই অতিরিক্ত পাওয়া এবং সেইসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাহিদা।

হাতে গোনা দু একজন একাকি বাবাকে জানি, যারা সন্তানের জন্য যা কিছু করা সম্ভব বা অসম্ভব তাও করছেন। কিন্তু সেই অতিরিক্ত করার ফলেই হয়তো এই সন্তানরাও বাবাকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড হিসাবে নিয়ে নিয়েছে এবং নিজের আনন্দের বাইরে আর কিছু ভাবছে না।

অন্য চিত্রে দেখা যায়, বাবার সাথে থেকে যাওয়া সন্তানটি প্রতিদিন নিয়ম করে তার মায়ের বিভিন্ন বদভ্যাসের কথা শুনে বড় হচ্ছে। মায়ের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি। মা তার কাছে ডাইনির সমার্থক। বাবার সাথেও যে তার সাবলীল সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তা বলা যাবে না। বাবাও হয়তো অনুভব করছেন সেই দূরত্ব।

সন্তানটি হয়তো মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে মাদকে আসক্ত হচ্ছে, কী নানা ধরনের কুঅভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

ওদিকে কোনো কোনো একাকি মায়ের সাথে থাকা সন্তানটি শোনে তার বাবার সম্পর্কে নানা কথা যার ফলশ্রুতিতে বাবা তার কাছে জল্লাদের প্রতিশব্দ। এখানেও সে মন খুলতে পারে না মায়ের কাছে। পরিণতি নানা ধরনের মানসিক সমস্যা। সন্তানের বেড়ে ওঠার সমস্যা। এইসব সমস্যা স্বাভাবিক যৌথ পরিবারে হচ্ছে না সে কথা জোর গলায় বলা যাবে না, কিন্তু একাকি মা-বাবার সন্তানরা একটু বেশিই মানসিক চাপে থাকে।

আরেক ধরনের চিত্রে দেখি, মা বাবা যদি নুতন সংসার শুরু করেন, সেই নুতন জীবনসঙ্গী তাঁর স্ত্রী বা স্বামীর সন্তানকে অনেক সময় সহজ করে নিতে পারেন না। তখন সেই বাবা বা মায়ের যে অন্তর জ্বালাতা কিছুতেই প্রশমিত হয় না। এদিকে সন্তানটি একে তো মা-বাবার আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে এমনিতেই বিপর্যস্ত থাকে, সে যে ধরনের সামাজিক সমস্যার সামনাসামনি করে, তাতে সে এই চাপ কিভাবে সামলায়, চিন্তা করে বেদনায় ভরে ওঠে আমার প্রাণ। তার সাথে যোগ হয় মা বা বাবার নুতন সঙ্গীর সাথে মানিয়ে নেয়ার টানাপোড়েন!

নুতন মা বাবারও থাকে এই সন্তানের সাথে মানিয়ে নেয়ার চাপ। তবে এখানেও যে নারীটি সন্তানসহ পুরুষকে বিয়ে করেন তার উপরে চাপটা বেশি থাকে বলে মনে হয়েছে।

আমাদের দেশে এমন চিত্র কমই দেখি, বলতে গেলে দেখিই না যে, নারী পুরুষ স্বামী স্ত্রী হিসাবে আলাদা হয়ে গেলেও মা-বাবা হিসাবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। কেন পারি না আমরা এটা!

আমার বন্ধু একলা হয়েছেন অনেক বছর হলো। তাঁর স্ত্রী বাংলাদেশী নন। দুজনেই নুতন করে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু একমাত্র সন্তানটিকে তাঁরা দুজনে মা-বাবার যথাযথ আদর স্নেহ-শাসনে বড় করে তুলছেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন করার পরেও মা-বাবার দায়িত্ব তাঁরা সহজ সুন্দরভাবে পালন করছেন। চমৎকার সংবেদশীল সন্তানটি তাঁদের।

এর আগেও বহুবার বলবার চেষ্টা করেছি, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক ছিন্ন করার পরে পরস্পরের জন্য প্রাক্তন হয়ে গেলেও, সন্তানের মা-বাবা হিসাবে তো প্রাক্তন হন না। তাহলে কেন সিঙ্গেল প্যারেন্ট হওয়ার পরেও প্যারেন্টিংটা যতোটা পারা যায় সহজ-স্বাভাবিক করা যায় না? একটু বোঝাপড়া নিজেদের মধ্যে কি করে নেয়া যায় না অন্তত সন্তানের ভালোর জন্য?

কোনো এক একাকী মায়ের সন্তানের কথা জানি, মাত্র নয় বছর বয়সে তার মা-বাবা যখন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুমি কার সাথে থাকতে চাও? তোমার মায়ের সাথে, না আমার সাথে?’ কী ধরনের মানসিক চাপ আর কষ্টের মধ্য দিয়ে সেই শিশুটিকে যেতে হয়েছিল, তা আমরা কেউই অনুমান করতে পারবো না।

আবার সিঙ্গেল প্যারেন্টদের বা তাঁদের সন্তানদের সমস্যার ধরন তাঁদের সামাজিক অবস্থানের উপরেও নির্ভর করে। মা-বাবা যদি উচ্চবিত্ত পরিবারের হন, সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা সামাজিক সমালোচনার চাপ তাঁদেরকে অতটা সমস্যায় ফেলে না, যতটা ফেলে মধ্যবিত্ত পরিবারের একাকি হয়ে যাওয়া মা-বাবা বা তাঁদের সন্তানকে।

এখনো যেকোনো সন্তানের জন্য তার মা-বাবার আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি সামাজিক ট্যাবু হিসাবে প্রবলভাবে বিদ্যমান। একাকি মা হিসাবে আমার নিজের সন্তানকে এই সত্য সহজভাবে নিতে অনেকখানি সময় আর অনেক এফোরড দিতে হয়েছে। তাকে বুঝাতে হয়েছে যে, তার মা-বাবার মধ্যে মিল হচ্ছিল না বলেই আলাদা হতে হয়েছে। তার বাবার সম্পর্কে কখনো কোনো নেতিবাচক কথা উচ্চারণ থেকে বিরত থেকেছি। কিন্তু তাতেও কি শেষ রক্ষা হয়েছে?

বর্ধিত পরিবারের বিভিন্ন সদস্য বিভিন্ন সময়ে আমার সন্তানের সামনে পিছনে তার বাবার সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছে, যাতে সে মনোকষ্টে ভুগেছে। সিঙ্গেল প্যারেন্টদের সন্তানদের মনোবেদনা বাড়িয়ে দিতে এক্সটেন্ডেড পরিবারও কম নেগেটিভ ভূমিকা রাখেন না।

আবার নিম্নবিত্ত বা কর্মজীবী পরিবারের সমস্যা প্রকট হয় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। সেখানে থাকে সন্তানদের বিশেষ করে মেয়ে সন্তানটির নিরাপত্তার বিষয়টি।

আরো একটা ব্যাপার আমাদের এই রক্ষণশীল সমাজে রয়েছে, মা-বাবা যখন আলাদা হচ্ছেন তখন সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে সন্তানকে কোন পক্ষ হিসাবেই বিবেচনা করা হয় না। অথচ এই আলাদা হবার প্রক্রিয়ায় সন্তানরাই বেশি কষ্টের ভেতর দিয়ে যায়। মানসিক সামাজিক ক্ষতি তারই বেশি হয়। তার সুস্থ মানুষ হিসাবে বেড়ে উঠবার প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয় অনেক ক্ষেত্রে।

মেয়েটির হয়তো সময়ের আগে বিয়ে হয়ে যায়। ছেলেটি তার স্বপ্ন পূরণে সফল হয় না। অথচ সে শুধু সিদ্ধান্তটি ফাইনাল হলে পরে জানে। তবে এটা ভাবা ভুল যে ফাইনাল সিদ্ধান্তের আগে সন্তানরা মা-বাবার অমিলের বিষয়টি জানে না, বা বুঝে না। তারা সবই বুঝতে পারে। এটা আমি অনুমান থেকে নয়, বরং বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেই জানতে পেরেছি।

একটু চেষ্টা করলে এই সব কষ্ট-যন্ত্রণা থেকে পুরোপুরি রেহাই পাওয়া না গেলেও  হতাশা বেদনাবোধ কমানো যেতে পারে বলে মনে করি। মিল যখন দুজন নারী পুরুষের মধ্যে হচ্ছেই না তখন চূড়ান্ত অপ্রীতিকর পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে ব্যাপারটি আগেই সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। সেক্ষেত্রে অনেক অহেতুক মানসিক আর্থিক-সামাজিক চাপ থেকে মা-বাবা এবং সন্তান সবাই রেহাই পাবে।

আর সম্পর্ক চূড়ান্ত অসহনীয় পর্যায়ে না নিয়ে গেলে ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে সন্তানের লালন-পালনের বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। দুই পক্ষের পরিবারও আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে।

মিল হচ্ছে না বলেই কাউকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পরিবার সমাজ তার বিচারকের ভূমিকায় – এই ধারণা বদলে ফেলার সময় এসেছে। সময় এসেছে নারী পুরুষ এবং তাঁদের সন্তানদের পারিবারিক বিষয়ে অহেতুক নাক না গলানোর অভ্যাস তৈরি করার।

স্কুল কলেজ বা পাড়া প্রতিবেশীর ভূমিকাও কম নয় সিঙ্গেল প্যারেন্টদের জীবনকে সহজ অথবা কঠিন করে তুলতে।

অনেক উন্নত দেশে ম্যারেজ কাউন্সিলিং সেবার পাশাপাশি ডিভোর্স ম্যানেজিং কাউন্সিলিংও রয়েছে। কোনো একদিন আমাদের দেশেও হয়তো হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত আমরা নিজেরাই যদি একটু দায়িত্বের সাথে সাথে সংবেদনশীলতার পরিচয় দিতে পারি তাহলে সিঙ্গেল প্যারেন্টিং হয়তো বন্ধ করতে পারবো না, বা সেটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। কিন্তু অন্ততপক্ষে সিঙ্গেল প্যারেন্ট এবং তাঁদের সন্তানদের জীবনটাকে সহজ সুন্দর করতে সহায়তা করতে পারি।

শেষ করার আগেই বলতে চাই, এখনো অনেক সময়ে দেখি যে, আলাদা হয়ে যাওয়া পরিবারে বাবার পরিচয় বলবার সময় তিনি বিদেশে থাকেন বলা হয়ে থাকে, আর মায়ের ক্ষেত্রে মা আর জীবিত নেই এই কথা বলা হয়। কেন যে!

টিভি প্রোগ্রামে বলেছিলাম, রোল মডেলের কথা। আমাদের দেশে একাকি মায়ের অভিভাবকত্বে বেড়ে ওঠা খ্যাতিমান মানুষদের কথা আমরা জানি না, আলোচনা করি না। কিন্তু নাই কী অনেক বড় মানুষ আমাদের দেশে, যারা বিবাহ ছিন্ন করা একা মায়ের বা-বাবার অভিভাবকত্বে মানুষ হয়েছে। বিখ্যাত হয়েছেন?

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সেই বক্তৃতাটি আমি অনেক অনেক বার দেখি, যেখানে তিনি বলছেন, তিনি একজন সিঙ্গেল মায়ের অভিভাবকত্বে বড় হয়েছেন। দেখি আর ভাবি, ভাবতে থাকি।

লেখাটি ২,১২১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.